
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেছেন দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। কেক কাটা, দোয়া-মিলাদ, আলোচনা সভা, খাবার বিতরণ, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন স্থানে জন্মদিন পালন করা হয়।
১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের সভাপতির পাশাপাশি একাধিক মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
এবারের জন্মদিন ছিল ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায়। সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এবং গ্রেপ্তারের আশঙ্কার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের ছোট-বড় আয়োজন দেখা গেছে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে কয়েকশ নেতাকর্মী রং, আতশবাজি ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে জন্মদিন উপলক্ষে মিছিল করেন; পরে সেখান থেকে চারজনকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ।
দেশের বিভিন্ন স্থানে কোথাও কেক কেটে, কোথাও দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করে, আবার কোথাও খাবার বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জন্মদিন পালন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিনভর শেখ হাসিনাকে ঘিরে শুভেচ্ছা, পুরোনো স্মৃতি, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
নেতাকর্মীদের একাংশের কাছে এসব আয়োজন ছিল শুধু একটি জন্মদিন উদযাপন নয়, বরং রাজনৈতিক সংহতি ও ভালোবাসার প্রকাশ। নানা বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা শেখ হাসিনাকে ঘিরে নিজেদের আবেগ ও আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।
দেশের পাশাপাশি প্রবাসেও ছিল নানা আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রবাসী আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কেক কাটা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। কলকাতা ও দিল্লিতেও জন্মদিন ঘিরে কর্মসূচির পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ ২৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে গিয়ে শেখ হাসিনার প্রতি সংহতি জানানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।
ভারতে জন্মদিন উপলক্ষে একাধিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজনের কথাও সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংগঠন শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং নিরাপদ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করেছে বলে জানানো হয়।
জন্মদিনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতাও দৃশ্যমান হয়েছে। দেশে সীমিত পরিসরে আর প্রবাসে তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও সাম্প্রতিক সময়ে ভার্চুয়াল বৈঠক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে এবারের জন্মদিনের আয়োজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন, যা তাঁর জন্মদিনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের আলোচনায়ও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ, নজরদারি ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কার মধ্যেও শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন ঘিরে দেশ ও প্রবাসে নানা কর্মসূচি দেখা গেছে। কেক কাটা থেকে দোয়া, আলোচনা থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজন—বিভিন্ন মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁদের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার প্রতি শুভেচ্ছা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।
তাঁদের ভাষায়, শেখ হাসিনা এখনো কোটি নেতাকর্মী ও সমর্থকের কাছে আবেগ, আস্থা এবং রাজনৈতিক প্রত্যাশার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জন্মদিনের আয়োজনগুলো সেই অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উঠে এসেছে।